ফরিদপুর ০৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ভাঙ্গায় কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে স্বর্ণশিল্পী শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে দুই দিন ব্যাপী ‌বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত পাকিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরের মসজিদে বোমা হামলা, নিহত ১৬ জাতীয় গ্রিডে শনিবার যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মধুখালীতে মহিলা পরিষদের আয়োজনে তরুণ-তরুণীদের বিতর্ক প্রতিযোগিতা মধুখালীতে ভয় দেখিয়ে ছেলের বউকে ধর্ষণ, শ্বশুরের যাবজ্জীবন ফরিদপুরে দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন ভাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান জুবায়ের জুট মিলের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন: নতুন কর্মসংস্থানের দিগন্ত উন্মোচন মধুখালীতে তিন বস্তায় ছয় টুকরো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, ৩১ দফা-জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ২০২ Time View
216

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো নৈশভোজ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, ইসলাম ঐক্যজোটসহ ৪১টি দলের নেতারা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের যুগপৎ আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের এই মিলন দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও রাষ্ট্র সংস্কারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আন্তরিক পরিবেশে মতবিনিময় করেছেন এবং নির্বাচনে সহযোগিতার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে সরকারের গত পাঁচ মাসের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগও তাদের সামনে তুলে ধরেছেন।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী আন্দোলনকারীদের অবদানের মধ্য দিয়েই দেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা চিরতরে অঙ্গহানি বরণ করেছেন, জাতি তাদের অবদান চিরদিন স্মরণ করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পথে যুগপৎ শরিকদের অনেকেই কারাবরণ করেছেন, মামলার শিকার হয়েছেন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে এ বৈঠক ছিল আবেগঘন। প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক নেতার সঙ্গে পৃথকভাবে কুশল বিনিময় ও আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৈঠক নিয়মিত আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের ভাতা প্রদান, খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা চালু এবং খাল খনন কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক কাঠামোর দায়িত্ব নিয়েছে। ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সেগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় অর্থনীতি ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন বলে জানান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শরিকদের আশ্বস্ত করেছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনও জাতীয় নির্বাচনের মতো যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আইনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। তাই এ বিষয়ে এখনই আলোচনার প্রয়োজন নেই। তবে সব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় রাখা, রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সমন্বয় জোরদারে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করবেন।

Tag :
About Author Information

Acting Editor

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গায় কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত

যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, ৩১ দফা-জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

Update Time : ১১:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
216

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো নৈশভোজ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, ইসলাম ঐক্যজোটসহ ৪১টি দলের নেতারা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের যুগপৎ আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের এই মিলন দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও রাষ্ট্র সংস্কারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আন্তরিক পরিবেশে মতবিনিময় করেছেন এবং নির্বাচনে সহযোগিতার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে সরকারের গত পাঁচ মাসের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগও তাদের সামনে তুলে ধরেছেন।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী আন্দোলনকারীদের অবদানের মধ্য দিয়েই দেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা চিরতরে অঙ্গহানি বরণ করেছেন, জাতি তাদের অবদান চিরদিন স্মরণ করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পথে যুগপৎ শরিকদের অনেকেই কারাবরণ করেছেন, মামলার শিকার হয়েছেন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে এ বৈঠক ছিল আবেগঘন। প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক নেতার সঙ্গে পৃথকভাবে কুশল বিনিময় ও আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৈঠক নিয়মিত আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের ভাতা প্রদান, খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা চালু এবং খাল খনন কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক কাঠামোর দায়িত্ব নিয়েছে। ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সেগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় অর্থনীতি ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন বলে জানান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শরিকদের আশ্বস্ত করেছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনও জাতীয় নির্বাচনের মতো যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আইনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। তাই এ বিষয়ে এখনই আলোচনার প্রয়োজন নেই। তবে সব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় রাখা, রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সমন্বয় জোরদারে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করবেন।