কণ্ঠ ডেস্ক :
ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় টানা ১৩তম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী, ফলে রাজধানী তেহরানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর ও উপকূলীয় অঞ্চল কেঁপে উঠেছে। এসব হামলায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি কিছু আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন ঘাঁটি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তাদের দাবি, এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সম্ভাব্য হুমকি কমানো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইরানের কেশম দ্বীপ, খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ, আন্দিমেশক ও ওমিদিয়া শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় অন্তত দুজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক হামলার জবাবে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে পাল্টা আঘাতও চলবে।
এরই মধ্যে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, এসব হামলায় মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কুয়েতে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলার কথাও তারা স্বীকার করেছে, যা তারা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
Reporter Name 
























