ফরিদপুর ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মধুখালীতে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চুরির ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার, চুরির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উদ্ধার মধুখালীতে মধুমতি নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ড্রেজার মেশিন জব্দসহ একজন আটক মধুখালীতে দুই কেজি গাঁজা সহ মাদক ব্যবসায়ী আটক ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্বোধন দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর: মধুখালীতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মধুখালীতে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মধুখালীতে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি গ্রন্থগার ও যাদুঘর পরিদর্শন করলেন–জেলা পরিষদের প্রশাসক ফরিদপুর চিনিকলে তিনদিন ব্যাপী ইনহাউজ প্রশিক্ষণ শুরু টেকসই ও আধুনিক পৌর নগর গঠনে মধুখালীতে ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সবজি চাষের শর্তে পাউবোর লিজের জমিতে দোতলা বাড়ি, নোটিশের দেড় বছরেও হয়নি উচ্ছেদ বিশেষ প্রতিনিধি:

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ১৬৩ Time View
177

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণকৃত জায়গায় সবজি চাষের শর্তে লিজ নেয়া জমিতে চারতলা ফাউন্ডেশন করে গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শর্ত ভঙ্গ করে পাকা স্থাপনা গড়ে তোলায় পাউবো থেকে লিজ বাতিল করে নোটিশ করলেও দেড় বছরেও তা উচ্ছেদ করা হয়নি। এছাড়া ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বর্তমানে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

এমন অভিযোগ উঠেছে, আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর বাজারস্থ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মো. জাকির হোসেন শেখ নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করে অন্যদের লিজকৃত জমি, এলজিইডি নির্মিত পাকারাস্তা ও একটি মসজিদের নামের ওয়াকফের জায়গা দখলেরও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রতিবাদ করায় সরকারি চাকরিরত দুই ব্যক্তির মাধ্যমে হুমকি-ধমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

কাজী মঈনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ২০০২ সালে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জমি লিজ নিয়ে বাড়ি করেছি। আমার এই জায়গার কিছু অংশ দখলে নিয়েছে। এছাড়া ২০০৭ সালে লিজের জমিতে এলজিইডির মাধ্যমে একটি পাকা রাস্তাও করে দিয়েছে। বর্তমানে জাকির হোসেন শেখের সহায়তায় স্থানীয় নূর আলম খান নামে এক ব্যক্তি নিজের জায়গা দাবি করে ওই রাস্তায় বালু ফেলে টিনের ছাপড়া ঘর তুলেছে। কিন্তু আমার লিজতো বাতিল করা হয়নি, তাহলে কিভাবে সে তাঁর জায়গা দাবি করে। মূলত, জাকির হোসেন শেখের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি শক্তিপ্রদর্শন করে এসব করাচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘তাঁর ভাই পুলিশ সদস্য জাহিদুল ইসলামের ক্ষমতায় এসব করছেন। এছাড়া বালু ফেলে দখলের প্রতিবাদ করতে গেলে শরিয়তপুরের পালং থানার ওসি পরিচয়ে এক ব্যক্তি আমাকে ফোন দিয়ে বলে- ওখানে আমার ভাগনে বালু ফেলছে, তোমরা বাঁধা দেয়ার কে, ওটা আমাদের জায়গা। ওই ব্যক্তি আমাকেও আরও হুমকি-ধমকিও দেন।’

এদিকে পাউবো সুত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে শাকসবজি চাষের শর্তে ১১ শতাংশ জমি লিজ নিয়েছেন ওই ব্যক্তি। তবে শর্ত ভঙ্গ করায় তাঁর লিজ বাতিল করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা স্বাক্ষরিত একটি উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করেন জাকির হোসেন শেখের নামে।

ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত তিনটি দাগের ১১ শতাংশ জায়গা সাময়িক শাকসবজি চাষাবাদে ইজারা প্রদান করা হয় জাকির হোসেন শেখকে। কিন্তু ইজারার নিয়ম ও শর্তাবলী ভঙ্গ করায় তাঁর ইজারা বাতিল করা হয় এবং অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু নিয়ম ও শর্ত বর্হিভূত স্থাপনা নির্মাণ অপসারণে মৌখিকভাবে বলার পরেও অপসারণ করেননি। যা গুরুত্বর অপরাধ ও সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের শামিল বলে আখ্যায়িত করা হয়। পাশাপাশি ওই নোটিশে কাজী নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির লিজকৃত ১৬ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়।
এসবের কারনে সাতদিনের মধ্যে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয় তাকে। অন্যথায় সরকারি সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে বাপাউবো সহ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় উক্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। তবে দেড় বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আজও তা উচ্ছেদ করা হয়নি।

এছাড়া ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি বর্তমানে দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন স্বাক্ষরিক ওই এলাকায় বাপাউবোর ইজারা দেয়া সম্পত্তিতে ৩১টি অবৈধ স্থাপনার তালিকা করা হয়। ওই তালিকায় জাকির হোসেন শেখের বিষয়ে উল্লেখ থাকলেও সেখানে দেখানো হয়েছে- মাত্র ৪ শতাংশ জমি দখলে নিয়ে একটি ছাপড়া ঘর ও একটি সেমিপাকা ঘরের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, লিজকৃত ওই জায়গায় দোতলা ভবন রয়েছে। প্রথমে বোঝার উপায় নেই যে- এটি দোতলা ভবন। তবে ভবনের পেছনে গেলে তা দৃশ্যমান দোতলা ভবন। ভবনের পেছনের অংশে নিচতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। এছাড়া সড়ক সংলগ্ন উপরের অংশে প্রায় ২০ মিটার কংক্রিটের ঢালাই ছাদে একাধিক দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। ওই ভবনটি চারতলা ফাউন্ডেশনে গড়ে তোলা হয়েছে বলে একাধিক সুত্রে জানা যায়।

এছাড়া সরেজমিনে আরও দেখা যায়, ওই ভবনের কয়েক গজ দূরেই মসজিদের জন্য নির্ধারিত জায়গার দুইপাশে বাশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং দখলকৃত রাস্তার উপরে বালু ফেলে টিনের একটি ছাপড়াঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জাকির হোসেন শেখে দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে উঠা সকল অভিযোগ খারিজ হয়েছে। এছাড়া পাকা রাস্তার উপরে বালু ফেলে ও টিনের ছাপড়া উঠিয়ে দখলের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
অপরদিকে নূর আলম খান দাবি করেন, তাঁর ব্যক্তিগত জায়গায় বালু ফেলা হয়েছে। তবে ইজারার অনুমতিপত্র ও দলিল দেখানোর কথা বললে এড়িয়ে গিয়ে বলেন- আমি ঢাকায় আছি, দুই-একদিনের মধ্যেই আপনাকে পাঠিয়ে দেব। এরপর আর তিনি যোগাযোগও করেননি।

এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেনের সাথে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘উচ্ছেদের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদনও করেছি। কিন্তু আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট না দেয়ায় উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। ম্যাজিস্ট্রেট দেয়া হলে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে আমাদের জায়গাগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এছাড়া ওই এলাকায় লিজ নবায়ন না হওয়ায় একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে অন্যদের জায়গাও দখলে নিচ্ছেন বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি, এসব বিষয়ে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Tag :
About Author Information

Acting Editor

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুখালীতে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চুরির ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার, চুরির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উদ্ধার

সবজি চাষের শর্তে পাউবোর লিজের জমিতে দোতলা বাড়ি, নোটিশের দেড় বছরেও হয়নি উচ্ছেদ বিশেষ প্রতিনিধি:

Update Time : ১০:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
177

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণকৃত জায়গায় সবজি চাষের শর্তে লিজ নেয়া জমিতে চারতলা ফাউন্ডেশন করে গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শর্ত ভঙ্গ করে পাকা স্থাপনা গড়ে তোলায় পাউবো থেকে লিজ বাতিল করে নোটিশ করলেও দেড় বছরেও তা উচ্ছেদ করা হয়নি। এছাড়া ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বর্তমানে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

এমন অভিযোগ উঠেছে, আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর বাজারস্থ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মো. জাকির হোসেন শেখ নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করে অন্যদের লিজকৃত জমি, এলজিইডি নির্মিত পাকারাস্তা ও একটি মসজিদের নামের ওয়াকফের জায়গা দখলেরও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রতিবাদ করায় সরকারি চাকরিরত দুই ব্যক্তির মাধ্যমে হুমকি-ধমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

কাজী মঈনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ২০০২ সালে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জমি লিজ নিয়ে বাড়ি করেছি। আমার এই জায়গার কিছু অংশ দখলে নিয়েছে। এছাড়া ২০০৭ সালে লিজের জমিতে এলজিইডির মাধ্যমে একটি পাকা রাস্তাও করে দিয়েছে। বর্তমানে জাকির হোসেন শেখের সহায়তায় স্থানীয় নূর আলম খান নামে এক ব্যক্তি নিজের জায়গা দাবি করে ওই রাস্তায় বালু ফেলে টিনের ছাপড়া ঘর তুলেছে। কিন্তু আমার লিজতো বাতিল করা হয়নি, তাহলে কিভাবে সে তাঁর জায়গা দাবি করে। মূলত, জাকির হোসেন শেখের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি শক্তিপ্রদর্শন করে এসব করাচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘তাঁর ভাই পুলিশ সদস্য জাহিদুল ইসলামের ক্ষমতায় এসব করছেন। এছাড়া বালু ফেলে দখলের প্রতিবাদ করতে গেলে শরিয়তপুরের পালং থানার ওসি পরিচয়ে এক ব্যক্তি আমাকে ফোন দিয়ে বলে- ওখানে আমার ভাগনে বালু ফেলছে, তোমরা বাঁধা দেয়ার কে, ওটা আমাদের জায়গা। ওই ব্যক্তি আমাকেও আরও হুমকি-ধমকিও দেন।’

এদিকে পাউবো সুত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে শাকসবজি চাষের শর্তে ১১ শতাংশ জমি লিজ নিয়েছেন ওই ব্যক্তি। তবে শর্ত ভঙ্গ করায় তাঁর লিজ বাতিল করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা স্বাক্ষরিত একটি উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করেন জাকির হোসেন শেখের নামে।

ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত তিনটি দাগের ১১ শতাংশ জায়গা সাময়িক শাকসবজি চাষাবাদে ইজারা প্রদান করা হয় জাকির হোসেন শেখকে। কিন্তু ইজারার নিয়ম ও শর্তাবলী ভঙ্গ করায় তাঁর ইজারা বাতিল করা হয় এবং অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু নিয়ম ও শর্ত বর্হিভূত স্থাপনা নির্মাণ অপসারণে মৌখিকভাবে বলার পরেও অপসারণ করেননি। যা গুরুত্বর অপরাধ ও সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের শামিল বলে আখ্যায়িত করা হয়। পাশাপাশি ওই নোটিশে কাজী নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির লিজকৃত ১৬ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়।
এসবের কারনে সাতদিনের মধ্যে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয় তাকে। অন্যথায় সরকারি সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে বাপাউবো সহ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় উক্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। তবে দেড় বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আজও তা উচ্ছেদ করা হয়নি।

এছাড়া ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি বর্তমানে দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন স্বাক্ষরিক ওই এলাকায় বাপাউবোর ইজারা দেয়া সম্পত্তিতে ৩১টি অবৈধ স্থাপনার তালিকা করা হয়। ওই তালিকায় জাকির হোসেন শেখের বিষয়ে উল্লেখ থাকলেও সেখানে দেখানো হয়েছে- মাত্র ৪ শতাংশ জমি দখলে নিয়ে একটি ছাপড়া ঘর ও একটি সেমিপাকা ঘরের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, লিজকৃত ওই জায়গায় দোতলা ভবন রয়েছে। প্রথমে বোঝার উপায় নেই যে- এটি দোতলা ভবন। তবে ভবনের পেছনে গেলে তা দৃশ্যমান দোতলা ভবন। ভবনের পেছনের অংশে নিচতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। এছাড়া সড়ক সংলগ্ন উপরের অংশে প্রায় ২০ মিটার কংক্রিটের ঢালাই ছাদে একাধিক দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। ওই ভবনটি চারতলা ফাউন্ডেশনে গড়ে তোলা হয়েছে বলে একাধিক সুত্রে জানা যায়।

এছাড়া সরেজমিনে আরও দেখা যায়, ওই ভবনের কয়েক গজ দূরেই মসজিদের জন্য নির্ধারিত জায়গার দুইপাশে বাশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং দখলকৃত রাস্তার উপরে বালু ফেলে টিনের একটি ছাপড়াঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জাকির হোসেন শেখে দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে উঠা সকল অভিযোগ খারিজ হয়েছে। এছাড়া পাকা রাস্তার উপরে বালু ফেলে ও টিনের ছাপড়া উঠিয়ে দখলের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
অপরদিকে নূর আলম খান দাবি করেন, তাঁর ব্যক্তিগত জায়গায় বালু ফেলা হয়েছে। তবে ইজারার অনুমতিপত্র ও দলিল দেখানোর কথা বললে এড়িয়ে গিয়ে বলেন- আমি ঢাকায় আছি, দুই-একদিনের মধ্যেই আপনাকে পাঠিয়ে দেব। এরপর আর তিনি যোগাযোগও করেননি।

এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেনের সাথে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘উচ্ছেদের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদনও করেছি। কিন্তু আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট না দেয়ায় উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। ম্যাজিস্ট্রেট দেয়া হলে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে আমাদের জায়গাগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এছাড়া ওই এলাকায় লিজ নবায়ন না হওয়ায় একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে অন্যদের জায়গাও দখলে নিচ্ছেন বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি, এসব বিষয়ে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’