ফরিদপুর ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
পদ্মায় নৌকাডুবির ৩২ ঘণ্টা পরও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ বাবা-ছেলের ফরিদপুরের ত্রাস ফ্যাসিস্টের অন্যতম দোষর মো: রাকিবুর রহমান পুলিশের হাতে গ্রেফতার হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ বোয়ালমারীতে পাট ধোয়ার সময় পুকুরে পড়ে যুবকের মৃত্যু জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৩ জনের মৃত্যু ১৪ বছর পর রায় ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড আ’লীগ নেতা ও সরকারী কর্মকর্তা মিলে ১২ লাখ টাকা গিলে খেলেন বোয়ালমারীতে অবৈধ ভাবে স্থাপনা নির্মাণ ও বরাদ্দ দিয়ে ১২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আইনজীবী হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত সদরপুরে হাতির আক্রমণে ১০ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু, মাহুত আটক চার বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে যা বললেন জেনিফার লোপেজ

১৪ বছর পর রায় ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৯ Time View
14

বিশেষ প্রতিনিধি:

ফরিদপুরে ফয়সাল শেখ (২২) নামে এক সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনার প্রায় ১৪ বছর পর  মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার চাঁন সরদার (৪২) ও তাবু সরদার (৩৫), এবং বাবুল আকন্দ (৩৬)।

রায় ঘোষণার সময় বাবুল আকন্দ উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

পাশাপাশি পলাতক দুই ভাই চাঁন ও তারার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনে ফয়সাল শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত ফয়সাল ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত আকু শেখের ছেলে।

এ ঘটনার পরের দিন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় চাঁন সরদার, তারা সরদারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের মা ফিরোজা বেগম।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ফয়সাল শহরের হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারের আলীমুজ্জামান বেইলী সেতু-সংলগ্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা ছিলেন। এছাড়া আসামি চান সরদার আড়তে লেবারের কাজ করতেন। ঘটনার আগে তার ছেলে ফয়সালের সঙ্গে আসামি চান সরদারের মনোমালিন্যের জেরে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ঘটনার দিন দুপুরে ফয়সাল শেখ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এলাকায় পৌঁছালে তাকে কৌশলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে ডেকে নিয়ে যায় চান সরদার। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা অন্য আসামিরা এলোপাতাড়িভাবে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাৎক্ষণিক ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ফরিদপুর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই চাঁন সরদার, তারা সরদার, বাবুল আকন্দ ও শাহিন সরদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

এ মামলার শুনানি চলাকালে শাহিন সরদার (২২) মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে আদালতে হত্যাকাণ্ডটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় এবং তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামি মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি দুজন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Acting Editor

জনপ্রিয় সংবাদ

পদ্মায় নৌকাডুবির ৩২ ঘণ্টা পরও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ বাবা-ছেলের

১৪ বছর পর রায় ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

Update Time : ০৮:৪৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
14

বিশেষ প্রতিনিধি:

ফরিদপুরে ফয়সাল শেখ (২২) নামে এক সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনার প্রায় ১৪ বছর পর  মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার চাঁন সরদার (৪২) ও তাবু সরদার (৩৫), এবং বাবুল আকন্দ (৩৬)।

রায় ঘোষণার সময় বাবুল আকন্দ উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

পাশাপাশি পলাতক দুই ভাই চাঁন ও তারার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনে ফয়সাল শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত ফয়সাল ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত আকু শেখের ছেলে।

এ ঘটনার পরের দিন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় চাঁন সরদার, তারা সরদারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের মা ফিরোজা বেগম।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ফয়সাল শহরের হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারের আলীমুজ্জামান বেইলী সেতু-সংলগ্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা ছিলেন। এছাড়া আসামি চান সরদার আড়তে লেবারের কাজ করতেন। ঘটনার আগে তার ছেলে ফয়সালের সঙ্গে আসামি চান সরদারের মনোমালিন্যের জেরে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ঘটনার দিন দুপুরে ফয়সাল শেখ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এলাকায় পৌঁছালে তাকে কৌশলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে ডেকে নিয়ে যায় চান সরদার। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা অন্য আসামিরা এলোপাতাড়িভাবে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাৎক্ষণিক ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ফরিদপুর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই চাঁন সরদার, তারা সরদার, বাবুল আকন্দ ও শাহিন সরদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

এ মামলার শুনানি চলাকালে শাহিন সরদার (২২) মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে আদালতে হত্যাকাণ্ডটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় এবং তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামি মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি দুজন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।