ফরিদপুর ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ভাঙ্গায় কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে স্বর্ণশিল্পী শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে দুই দিন ব্যাপী ‌বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত পাকিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরের মসজিদে বোমা হামলা, নিহত ১৬ জাতীয় গ্রিডে শনিবার যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মধুখালীতে মহিলা পরিষদের আয়োজনে তরুণ-তরুণীদের বিতর্ক প্রতিযোগিতা মধুখালীতে ভয় দেখিয়ে ছেলের বউকে ধর্ষণ, শ্বশুরের যাবজ্জীবন ফরিদপুরে দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন ভাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান জুবায়ের জুট মিলের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন: নতুন কর্মসংস্থানের দিগন্ত উন্মোচন মধুখালীতে তিন বস্তায় ছয় টুকরো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফরের বিচার সেনা আইনেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ১১৫ Time View
128
কণ্ঠ প্রতিবেদক:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ আজ সোমবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে।”

তাঁর ভাষায়, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের বিচার সামরিক আদালতে হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে রায় দেওয়া হয়েছে। মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার বিচার হয়নি। সম্প্রতি তাকে গ্রেফতারের পর সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই ব্যক্তি একই অপরাধে দুই ভিন্ন আইনে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন না। সেনা আইনে তার বিচার হবে। যদি কোনো সিভিল কোর্ট সংশ্লিষ্ট বিষয় থাকে, সেটি পরবর্তীতে আইনগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

‘আগেই যেসব আসামি দণ্ডিত বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের মামলার রায়ে মোজাফফরের বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ বা ফাইন্ডিংস থাকলে তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনায় নেবে। সেনা আইনের অধীনেই তার বিচার সম্পন্ন হবে। সিভিল কোর্টে নতুন করে তাকে একই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা কতটা আইনসম্মত হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করবে’-উল্লেখ করেন তিনি।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও আধুনিক ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি, যানবাহন, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বিজিবি সদর দপ্তরে এসে বাহিনীর কার্যক্রম, সীমান্ত পরিস্থিতি, জনবল, ব্যাটালিয়ন ও সেক্টরের অবস্থা, সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে বিস্তারিত জেনেছি। সীমান্তে নজরদারি আরও কার্যকর করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে, যেন দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য চোরাচালান প্রতিরোধেও বিজিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে মাদক নিয়ন্ত্রণে বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সক্ষমতা কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। তবে নতুন ডগ স্কোয়াড গড়ে তুলতে সময় লাগবে। ততোদিন বিজিবির বিদ্যমান ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিজিবির সক্ষমতা বাড়াতে জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন, বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবির উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় নৌকার মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্ধার অভিযানে বাহিনীর ভূমিকা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবির প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায়। এসব বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

Acting Editor

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গায় কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফরের বিচার সেনা আইনেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০৯:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
128
কণ্ঠ প্রতিবেদক:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ আজ সোমবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে।”

তাঁর ভাষায়, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের বিচার সামরিক আদালতে হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে রায় দেওয়া হয়েছে। মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার বিচার হয়নি। সম্প্রতি তাকে গ্রেফতারের পর সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই ব্যক্তি একই অপরাধে দুই ভিন্ন আইনে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন না। সেনা আইনে তার বিচার হবে। যদি কোনো সিভিল কোর্ট সংশ্লিষ্ট বিষয় থাকে, সেটি পরবর্তীতে আইনগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

‘আগেই যেসব আসামি দণ্ডিত বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের মামলার রায়ে মোজাফফরের বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ বা ফাইন্ডিংস থাকলে তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনায় নেবে। সেনা আইনের অধীনেই তার বিচার সম্পন্ন হবে। সিভিল কোর্টে নতুন করে তাকে একই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা কতটা আইনসম্মত হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করবে’-উল্লেখ করেন তিনি।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও আধুনিক ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি, যানবাহন, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বিজিবি সদর দপ্তরে এসে বাহিনীর কার্যক্রম, সীমান্ত পরিস্থিতি, জনবল, ব্যাটালিয়ন ও সেক্টরের অবস্থা, সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে বিস্তারিত জেনেছি। সীমান্তে নজরদারি আরও কার্যকর করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে, যেন দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য চোরাচালান প্রতিরোধেও বিজিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে মাদক নিয়ন্ত্রণে বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সক্ষমতা কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। তবে নতুন ডগ স্কোয়াড গড়ে তুলতে সময় লাগবে। ততোদিন বিজিবির বিদ্যমান ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিজিবির সক্ষমতা বাড়াতে জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন, বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবির উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় নৌকার মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্ধার অভিযানে বাহিনীর ভূমিকা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবির প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায়। এসব বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।