ফরিদপুর ০২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ফরিদপুরে অগ্নিকান্ডে ৭টি পাটের গুদাম ভষ্মিভূত, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় দুই কোটি টাকা বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে দিলো না সন্তান! যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার দাফন নিয়ে ভাইবোনদের বিরোধ মধুখালীতে পানির গর্তে পড়ে ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অবসর ভাতার পরিকল্পনা করছে সরকার – মধুখালীতে হুইপ রুহুল কুদ্দুস দুলু এমপি মধুখালীতে বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের স্বাস্থ্যসেবা ও বোনাস চেক হস্তান্তর সম্পন্ন ফরিদপুরে বালু বাহী ট্রাক চাপায় মা-ছেলে নিহত মধুখালীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নারীসহ নিহত ৩, আহত ৪ মধুখালীতে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী লিয়াকত শেখের গণসংযোগ মধুখালী উপজেলা পরিষদের প্রবেশদ্বারে ‘আই লাভ মধুখালী’ শোভাবর্ধনের উদ্বোধন দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাবার্তা ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী

বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে দিলো না সন্তান! যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার দাফন নিয়ে ভাইবোনদের বিরোধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ Time View
12

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল নিজের পছন্দের জায়গায় সমাহিত হওয়ার। কিন্তু মৃত্যুর পর তিন ভাইবোনের কোনো কথাই শুনলেন না বড় ছেলে। বাকি ভাইবোনদের আপত্তি ও তীব্র প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ নিজের সিদ্ধান্তে বাবাকে নিজের কাছে নিয়ে কবর দিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৮ অক্টোবর রবিবার, যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও এলাকাবাসী বলেছেন তার মৃত্যুর আগে দেয়া কথা যেন প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের আলী হোসেনের ডাঙ্গী এলাকার প্রয়াত খলিলুর রহমান একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। গত ১৮ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর পর পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং তাঁর নিজের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর বড় সন্তান ওহাব জমাদ্দার বাকি তিন ভাইবোনের কোনো মতামত বা অনুরোধের তোয়াক্কা করেননি। তিনি একক সিদ্ধান্তে বাবার মরদেহ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অন্য জায়গায় দাফন সম্পন্ন করেন। এই ঘটনার পর খলিলুর রহমানের স্ত্রী, বাকি দুই মেয়ে এবং অন্য এক সন্তান তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তাঁদের অভিযোগ, বড় ভাই ওহাব জমাদ্দার কেবল তাঁদের আবেগকে আঘাত করেননি, বরং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ ইচ্ছার চরম অবমাননা করেছেন।

তার মেয়ে শেফালী বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাবা বেঁচে থাকতে তাঁর শেষ ইচ্ছার কথা আমাদের বলে গিয়েছিলেন। আমরা সব ভাইবোন মিলে বাবার সেই ইচ্ছা পূরণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বড় ভাই আমাদের কোনো কথাই শুনলেন না। তিনি জোরপূর্বক বাবাকে নিজের কাছে নিয়ে কবর দিলেন। আমরা এই একনায়কতান্ত্রিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তার আরেক সন্তান আব্দুর রব জমাদ্দার বললেন, “বাবা বেঁচে থাকতে বলেছিলেন তার মৃত্যুর পর তাকে যেন এলাকার গোরস্থানে কবর দেয়া হয়। আমরা সবাই চায় তাই চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবার শেষ ইচ্ছা আমার বড় ভাই পূরণ করতে দেয়নি। আমরা চাই আমার বাবাকে সেখান থেকে উঠে নিয়ে এসে গোরস্থানে তার ইচ্ছার মতন কবর দেয়া হোক। কারণ তাকে যেখানে কবর দেয়া হয়েছে সেই জায়গাটি খুব ভালো জায়গা না। ‌ আমার বাবার কবর এভাবে আমরা দেখতে চাই না”।

এলাকার হাজী ইমদাদুল হক বললেন, “আমরা শুনেছিলাম তার শেষ ইচ্ছা ছিল তাকে বাড়ির পাশে গোরস্থানে কবর দেয়া যেন হয়। তবে সেই আশা তার বড় সন্তান পূরণ করতে দেয়নি। আমরা চাই এমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর যেন তার ইচ্ছামাফিক করা হয়”।

খলিলুর রহমানের রুবিয়া বেগম বললেন, “আমার স্বামী মৃত্যুর আগে তার কবরের কথা গোরস্থানে যেন হয়, সেই কথা বলে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর দিন তার লাশ জোর করে অন্যত্র নিয়ে কবর দিয়েছেন। এই কাজটি সঠিক হয়নি। তার ইচ্ছা থাকায় পরিবার ও এলাকাবাসী সবাই চেয়েছিল তার লাশ যেন গোরস্থানে কবর দেয়া হয়”।

এদিকে তার বড় সন্তান ওহাব জমাদ্দার বললেন, ” আমার বাবার এটা পুরান বাড়ি। সে এক সময় এই বাড়িতে বসবাস করতেন। আমি তার মৃত্যুর পরে তাকে তার সেই পুরাতন বাড়িতে নিয়ে এসে কবর দিয়েছি। এখন আমার ভাই বোন মিথ্যা কথা বলছে”।

ফরিদপুরের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পাখি বললেন, “তিনি বেঁচে থাকতে আমাদের কাছে বলে গিয়েছিলেন তাকে যেন গোরস্থানে কবর দেয়া হয়। তখন তিনি বলেছিলেন আলিপুর গোরস্থানের কথা। তবে তার বড় সন্তান সেই আশা পূরণ করতে দেয়নি। তার লাশ নিয়ে একটা রাজনীতি হয়েছে। এটা আসলে আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা চাই আমাদের মুক্তিযোদ্ধা খলিল ভাই যেখানে তার ইচ্ছার কথা বলে গিয়েছিলেন সেখানেই যেন কবর দেয়া হয়। প্রয়োজন এখন তার লাশ সেখান থেকে নিয়ে এসে প্রশাসন যেন তার মৃত্যুর আগে দেয়া কথার বাস্তবায়ন করে দেন”।

এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর কেন এভাবে পারিবারিক বিরোধের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন তার মৃত্যুর আগে দেয়া কথা যেন প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

Tag :
About Author Information

Acting Editor

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে অগ্নিকান্ডে ৭টি পাটের গুদাম ভষ্মিভূত, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় দুই কোটি টাকা

বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে দিলো না সন্তান! যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার দাফন নিয়ে ভাইবোনদের বিরোধ

Update Time : ০৯:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
12

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল নিজের পছন্দের জায়গায় সমাহিত হওয়ার। কিন্তু মৃত্যুর পর তিন ভাইবোনের কোনো কথাই শুনলেন না বড় ছেলে। বাকি ভাইবোনদের আপত্তি ও তীব্র প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ নিজের সিদ্ধান্তে বাবাকে নিজের কাছে নিয়ে কবর দিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৮ অক্টোবর রবিবার, যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও এলাকাবাসী বলেছেন তার মৃত্যুর আগে দেয়া কথা যেন প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের আলী হোসেনের ডাঙ্গী এলাকার প্রয়াত খলিলুর রহমান একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। গত ১৮ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর পর পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং তাঁর নিজের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর বড় সন্তান ওহাব জমাদ্দার বাকি তিন ভাইবোনের কোনো মতামত বা অনুরোধের তোয়াক্কা করেননি। তিনি একক সিদ্ধান্তে বাবার মরদেহ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অন্য জায়গায় দাফন সম্পন্ন করেন। এই ঘটনার পর খলিলুর রহমানের স্ত্রী, বাকি দুই মেয়ে এবং অন্য এক সন্তান তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তাঁদের অভিযোগ, বড় ভাই ওহাব জমাদ্দার কেবল তাঁদের আবেগকে আঘাত করেননি, বরং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ ইচ্ছার চরম অবমাননা করেছেন।

তার মেয়ে শেফালী বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাবা বেঁচে থাকতে তাঁর শেষ ইচ্ছার কথা আমাদের বলে গিয়েছিলেন। আমরা সব ভাইবোন মিলে বাবার সেই ইচ্ছা পূরণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বড় ভাই আমাদের কোনো কথাই শুনলেন না। তিনি জোরপূর্বক বাবাকে নিজের কাছে নিয়ে কবর দিলেন। আমরা এই একনায়কতান্ত্রিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তার আরেক সন্তান আব্দুর রব জমাদ্দার বললেন, “বাবা বেঁচে থাকতে বলেছিলেন তার মৃত্যুর পর তাকে যেন এলাকার গোরস্থানে কবর দেয়া হয়। আমরা সবাই চায় তাই চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবার শেষ ইচ্ছা আমার বড় ভাই পূরণ করতে দেয়নি। আমরা চাই আমার বাবাকে সেখান থেকে উঠে নিয়ে এসে গোরস্থানে তার ইচ্ছার মতন কবর দেয়া হোক। কারণ তাকে যেখানে কবর দেয়া হয়েছে সেই জায়গাটি খুব ভালো জায়গা না। ‌ আমার বাবার কবর এভাবে আমরা দেখতে চাই না”।

এলাকার হাজী ইমদাদুল হক বললেন, “আমরা শুনেছিলাম তার শেষ ইচ্ছা ছিল তাকে বাড়ির পাশে গোরস্থানে কবর দেয়া যেন হয়। তবে সেই আশা তার বড় সন্তান পূরণ করতে দেয়নি। আমরা চাই এমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর যেন তার ইচ্ছামাফিক করা হয়”।

খলিলুর রহমানের রুবিয়া বেগম বললেন, “আমার স্বামী মৃত্যুর আগে তার কবরের কথা গোরস্থানে যেন হয়, সেই কথা বলে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর দিন তার লাশ জোর করে অন্যত্র নিয়ে কবর দিয়েছেন। এই কাজটি সঠিক হয়নি। তার ইচ্ছা থাকায় পরিবার ও এলাকাবাসী সবাই চেয়েছিল তার লাশ যেন গোরস্থানে কবর দেয়া হয়”।

এদিকে তার বড় সন্তান ওহাব জমাদ্দার বললেন, ” আমার বাবার এটা পুরান বাড়ি। সে এক সময় এই বাড়িতে বসবাস করতেন। আমি তার মৃত্যুর পরে তাকে তার সেই পুরাতন বাড়িতে নিয়ে এসে কবর দিয়েছি। এখন আমার ভাই বোন মিথ্যা কথা বলছে”।

ফরিদপুরের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পাখি বললেন, “তিনি বেঁচে থাকতে আমাদের কাছে বলে গিয়েছিলেন তাকে যেন গোরস্থানে কবর দেয়া হয়। তখন তিনি বলেছিলেন আলিপুর গোরস্থানের কথা। তবে তার বড় সন্তান সেই আশা পূরণ করতে দেয়নি। তার লাশ নিয়ে একটা রাজনীতি হয়েছে। এটা আসলে আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা চাই আমাদের মুক্তিযোদ্ধা খলিল ভাই যেখানে তার ইচ্ছার কথা বলে গিয়েছিলেন সেখানেই যেন কবর দেয়া হয়। প্রয়োজন এখন তার লাশ সেখান থেকে নিয়ে এসে প্রশাসন যেন তার মৃত্যুর আগে দেয়া কথার বাস্তবায়ন করে দেন”।

এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর কেন এভাবে পারিবারিক বিরোধের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন তার মৃত্যুর আগে দেয়া কথা যেন প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।