ফরিদপুর ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মধুখালীতে অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত মধুখালীতে মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত মধুখালী বৈকণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার নামে লুটপাটের অভিযোগ মধুখালিতে এ-আই এর প্রভাব ও ব্যবহার” বিষয়ক দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে  ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসকের সঙ্গে মধুখালী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মধুখালীর শ্যামরায় মন্দিরে গ্রিলের হ্যাজবোল ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরি, খোয়া গেল রাধা-গোবিন্দের পিতলের মূর্তি মধুখালীতে মাদক কারবারি ও  ওয়ারেন্টভুক্তসহ ১৪ আসামি গ্রেফতার মধুখালীতে চিনিকল যুবসংঘের আয়োজনে ফুটবল টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত ঢামেকে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে মধুখালীতে ফারিয়ার মানববন্ধন বিএনপি’র রাজনীতিকে নস্যাৎ করতে যতবার আক্রমন,হামলা-মামলা করা হয়েছে ,বাংলাদেশের মানুষ জাতীয়তাবাদের পতাকা ততবার শক্ত হাতে ধরেছে———আলী নওেয়াজ মাহমুদ খৈয়ম

মধুখালী বৈকণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার নামে লুটপাটের অভিযোগ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বৈকণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কনক লতা দাসের বিরুদ্ধে কাজ না করেই ভুয়া ভাউচার তৈরি করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (১৬ মে) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিদ্যালয়টির মেরামত কাজের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ২৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী মোট টাকার ১৫ শতাংশ ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দের সম্পূর্ণ টাকার কাজ দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক কাজই করা হয়নি। একটি নিম্নমানের ১৮ ওয়াটের একটি বৈদ্যুতিক বাল্বের মূল্য ভাউচারে প্রতি পিস ৮০০ টাকা দেখানো হয়েছে। ভাউচার ওয়ালটন কোম্পানির বৈদ্যুতিক বাল্ব কেনা হয়েছে বলে লেখা আছে,তবে ভাউচারের নাম্বারে ফোন দিয়ে উক্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তারা গত এক বছরেও ওয়াল্টন কোম্পানির কোন বাল্ব বিক্রয় করে নাই। এছাড়া টিউবওয়েলের একটি ওয়াশারের বাজার মূল্য প্রায় ১৫০ টাকা হলেও ভাউচারে ১ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে বৈদ্যুতিক তার বাবদ ১২ হাজার টাকার হিসাব দেখানো হলেও সরেজমিনে ১ হাজার টাকার তার ব্যবহার করা হয়নি।
পানির মটর মেরামত বাবদ ২৪৮০ টাকা বিল করা হয়েছে,তবে জানা যায় বিদ্যালয়ের পানির মটরটি কখনোই মেরামত করা হয়নি। অন্য একটি ভাউজারে দেখা যায় ইট বালু সিমেন্ট দিয়ে ছোট্ট একটি হাউজ বানানো হয়েছে যার খরচ ৭ হাজার টাকা।এলাকার মানুষ জানায়, ইট বালু আগে থেকেই ছিল শুধুমাত্র সিমেন্ট ও মিস্ত্রি খবর এত কিভাবে হয়। শ্রেণীকক্ষে বাচ্চাদের বসবার কার্পেট না কিনেও কার্পেটের বিল করা হয়েছিল,তবে অভিভাবকদের প্রশ্নের মুখে পরে কার্পেট ক্রয় করে আনা হয়েছে । একটি ঝুড়ির মূল্য ২১০ টাকা,একটি বালতির মূল্য ২০০ টাকা ও একটি মগের মূল্য ৬৬ টাকা দেখানো হয়েছে।
দেখা যায় একাধিক ভাউচারে একই হাতের লেখা রয়েছে,এতে বোঝা যায় এই ভাউচার গুলো ডুবলিকেট বানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কনক লতা দাস বলেন, “আমি যে টাকা পেয়েছি, সব টাকার কাজ করেছি, তবে ট্যাক্সের টাকা সংযুক্ত করতে গিয়ে আমাকে হিসাব গরমিল করতে হয়েছে। বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি আরো বলেন এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত রুপা ঘোষ রয়েছে, তিনি বিষয়টি অবগত রয়েছেন। শিক্ষা কর্মকর্তা রুপা ঘোষ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি আমরা জেনেছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দাবি তোলা হয়।

Tag :
About Author Information

Acting Editor

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুখালীতে অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মধুখালী বৈকণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার নামে লুটপাটের অভিযোগ

Update Time : ০৯:১৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বৈকণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কনক লতা দাসের বিরুদ্ধে কাজ না করেই ভুয়া ভাউচার তৈরি করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (১৬ মে) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিদ্যালয়টির মেরামত কাজের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ২৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী মোট টাকার ১৫ শতাংশ ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দের সম্পূর্ণ টাকার কাজ দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক কাজই করা হয়নি। একটি নিম্নমানের ১৮ ওয়াটের একটি বৈদ্যুতিক বাল্বের মূল্য ভাউচারে প্রতি পিস ৮০০ টাকা দেখানো হয়েছে। ভাউচার ওয়ালটন কোম্পানির বৈদ্যুতিক বাল্ব কেনা হয়েছে বলে লেখা আছে,তবে ভাউচারের নাম্বারে ফোন দিয়ে উক্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তারা গত এক বছরেও ওয়াল্টন কোম্পানির কোন বাল্ব বিক্রয় করে নাই। এছাড়া টিউবওয়েলের একটি ওয়াশারের বাজার মূল্য প্রায় ১৫০ টাকা হলেও ভাউচারে ১ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে বৈদ্যুতিক তার বাবদ ১২ হাজার টাকার হিসাব দেখানো হলেও সরেজমিনে ১ হাজার টাকার তার ব্যবহার করা হয়নি।
পানির মটর মেরামত বাবদ ২৪৮০ টাকা বিল করা হয়েছে,তবে জানা যায় বিদ্যালয়ের পানির মটরটি কখনোই মেরামত করা হয়নি। অন্য একটি ভাউজারে দেখা যায় ইট বালু সিমেন্ট দিয়ে ছোট্ট একটি হাউজ বানানো হয়েছে যার খরচ ৭ হাজার টাকা।এলাকার মানুষ জানায়, ইট বালু আগে থেকেই ছিল শুধুমাত্র সিমেন্ট ও মিস্ত্রি খবর এত কিভাবে হয়। শ্রেণীকক্ষে বাচ্চাদের বসবার কার্পেট না কিনেও কার্পেটের বিল করা হয়েছিল,তবে অভিভাবকদের প্রশ্নের মুখে পরে কার্পেট ক্রয় করে আনা হয়েছে । একটি ঝুড়ির মূল্য ২১০ টাকা,একটি বালতির মূল্য ২০০ টাকা ও একটি মগের মূল্য ৬৬ টাকা দেখানো হয়েছে।
দেখা যায় একাধিক ভাউচারে একই হাতের লেখা রয়েছে,এতে বোঝা যায় এই ভাউচার গুলো ডুবলিকেট বানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কনক লতা দাস বলেন, “আমি যে টাকা পেয়েছি, সব টাকার কাজ করেছি, তবে ট্যাক্সের টাকা সংযুক্ত করতে গিয়ে আমাকে হিসাব গরমিল করতে হয়েছে। বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি আরো বলেন এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত রুপা ঘোষ রয়েছে, তিনি বিষয়টি অবগত রয়েছেন। শিক্ষা কর্মকর্তা রুপা ঘোষ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি আমরা জেনেছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দাবি তোলা হয়।