ফরিদপুর ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চর ঝাউকান্দায় বন্যাদুর্গত ও প্রান্তিক মৎস্যচাষিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ দুর্গম চরের উন্নয়নে ক্লিনিক, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও নদীভাঙন রোধের দাবি ফরিদপুরের সারদা সুন্দরী কলেজে বিআরটিএর উদ্যোগ: সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে শহীদ জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি হেলেন জেরিন খানকে ঘিরে অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ চিকিৎসা সেবায় মানবতার ছোঁয়া: হতদরিদ্র প্রসূতি মায়ের পাশে দাঁড়ালেন ডা. আলামিন সারোয়ার মধুখালীতে ৮ দলের ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলার উদ্বোধন মধুখালী উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইদ্রিস আলীর ইন্তেকাল: গভীর শোক প্রকাশ বোয়ালমারীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে পিংক বাইসাইকেল ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, লাইব্রেরি উদ্বোধন চরভদ্রাসনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা, আনসার-গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের নির্দেশ

চিকিৎসা সেবায় মানবতার ছোঁয়া: হতদরিদ্র প্রসূতি মায়ের পাশে দাঁড়ালেন ডা. আলামিন সারোয়ার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ Time View
20

​মধুখালী উপজেলা প্রতিনিধি

গর্ভযন্ত্রণা আর চরম অসহায়ত্ব যখন একটি পরিবারের একমাত্র সম্বল, ঠিক তখনই মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে পাশে দাঁড়ালেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলামিন সারোয়ার।

স্বামী পরিত্যক্তা এবং অসহায় এক প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশনসহ সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এই কর্মকর্তা।

​জানা গেছে, মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের মাঝিবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র এক তরুণী চুমকির জীবনে নেমে আসে গভীর অন্ধকার।

বিয়ের পর সুখের সংসার তো দূরের কথা, ৩-৪ মাস আগে গর্ভবতী অবস্থায় তাকে ফেলে পালিয়ে যায় স্বামী।
খোঁজ নেয়নি সন্তানের অনাগত ভবিষ্যতেরও। পরিবার বলতে রয়েছে কেবল এক অন্ধ মা। স্বামীহীন, পিতৃহীন এবং অন্ধ মায়ের এই অসহায় তরুণীর গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে এসে দেখা দেয় তীব্র জটিলতা। অর্থাভাবে যেখানে পেটে দু’মুঠো ভাত জোটা দায়, সেখানে উন্নত চিকিৎসা বা সিজারিয়ান অপারেশন তো দূরের কথা।

​অসহায় এই প্রসূতি ও তার অন্ধ মায়ের কান্নায় যখন চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, তখনই খবর পৌঁছায় মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলামিন সারোয়ারের কানে। সংবাদটি পাওয়া মাত্রই তিনি আর চুপ করে বসে থাকেননি। দ্রুত মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

​ডা. আলামিন সারোয়ার ওই অসহায় মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন ও যাবতীয় চিকিৎসা সামগ্রীসহ সকল খরচের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। তার এই সময়োপযোগী ও মহৎ উদ্যোগে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন অসহায় ওই প্রসূতি ও তার অন্ধ মা।
আজ ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রসূতি মায়ের সিজার সিজার হয়।
তার কন্যা সন্তান হয়।

ডাক্তার আলামিন সারোয়ার নির্দেশে সিজারিয়ান মায়ের জন্য সব সময় তার দেখভাল করার জন্য একজন নার্স নিয়োজিত রয়েছেন।

​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ ডা. আলামিন সারোয়ারের এমন মানবিক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা বলছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ সমাজের বিত্তবানদের জন্য অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত।

এই মায়ের কথা শুনে রক্তের জন্য এগিয়ে আসেন বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান।

​ডা. আলামিন সারোয়ারের এই পদক্ষেপে শুধু একটি নবজাতকের নিরাপদ পৃথিবীর আলো দেখাই নিশ্চিত হয়নি, বরং সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নতুন বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।

Tag :
About Author Information

Acting Editor

জনপ্রিয় সংবাদ

চর ঝাউকান্দায় বন্যাদুর্গত ও প্রান্তিক মৎস্যচাষিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ দুর্গম চরের উন্নয়নে ক্লিনিক, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও নদীভাঙন রোধের দাবি

চিকিৎসা সেবায় মানবতার ছোঁয়া: হতদরিদ্র প্রসূতি মায়ের পাশে দাঁড়ালেন ডা. আলামিন সারোয়ার

Update Time : ০৯:২৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
20

​মধুখালী উপজেলা প্রতিনিধি

গর্ভযন্ত্রণা আর চরম অসহায়ত্ব যখন একটি পরিবারের একমাত্র সম্বল, ঠিক তখনই মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে পাশে দাঁড়ালেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলামিন সারোয়ার।

স্বামী পরিত্যক্তা এবং অসহায় এক প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশনসহ সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এই কর্মকর্তা।

​জানা গেছে, মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের মাঝিবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র এক তরুণী চুমকির জীবনে নেমে আসে গভীর অন্ধকার।

বিয়ের পর সুখের সংসার তো দূরের কথা, ৩-৪ মাস আগে গর্ভবতী অবস্থায় তাকে ফেলে পালিয়ে যায় স্বামী।
খোঁজ নেয়নি সন্তানের অনাগত ভবিষ্যতেরও। পরিবার বলতে রয়েছে কেবল এক অন্ধ মা। স্বামীহীন, পিতৃহীন এবং অন্ধ মায়ের এই অসহায় তরুণীর গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে এসে দেখা দেয় তীব্র জটিলতা। অর্থাভাবে যেখানে পেটে দু’মুঠো ভাত জোটা দায়, সেখানে উন্নত চিকিৎসা বা সিজারিয়ান অপারেশন তো দূরের কথা।

​অসহায় এই প্রসূতি ও তার অন্ধ মায়ের কান্নায় যখন চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, তখনই খবর পৌঁছায় মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলামিন সারোয়ারের কানে। সংবাদটি পাওয়া মাত্রই তিনি আর চুপ করে বসে থাকেননি। দ্রুত মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

​ডা. আলামিন সারোয়ার ওই অসহায় মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন ও যাবতীয় চিকিৎসা সামগ্রীসহ সকল খরচের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। তার এই সময়োপযোগী ও মহৎ উদ্যোগে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন অসহায় ওই প্রসূতি ও তার অন্ধ মা।
আজ ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রসূতি মায়ের সিজার সিজার হয়।
তার কন্যা সন্তান হয়।

ডাক্তার আলামিন সারোয়ার নির্দেশে সিজারিয়ান মায়ের জন্য সব সময় তার দেখভাল করার জন্য একজন নার্স নিয়োজিত রয়েছেন।

​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ ডা. আলামিন সারোয়ারের এমন মানবিক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা বলছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ সমাজের বিত্তবানদের জন্য অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত।

এই মায়ের কথা শুনে রক্তের জন্য এগিয়ে আসেন বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান।

​ডা. আলামিন সারোয়ারের এই পদক্ষেপে শুধু একটি নবজাতকের নিরাপদ পৃথিবীর আলো দেখাই নিশ্চিত হয়নি, বরং সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নতুন বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।