নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার লেবানন প্রবাসী দিপালী আক্তার (৩৪) ইসরাইলি বোমা হামলায় নিহত হওয়ার প্রায় এক মাস পর শুক্রবার (৮মে) সকালে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছায়। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবারে ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ ইসরাইলি বিমান হামলায় দিপালী আক্তার নিহত হন। তিনি উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব চরশালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে।
শুক্রবার (৮মে) সকাল ১০টায় নিহতের গ্রামের বাড়ির মুন্সির চর বাজারে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশ নেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোসাইন, ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আশিক ছিদ্দিকী, ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবিরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও হাজারো মানুষ।
জানাজা শেষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম নিহতের পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টায় দিপালী আক্তারের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে শুক্রবার সকালে তা গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দিপালী আক্তার পাঁচ বছর ধরে লেবাননে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি নিজের জীবন-যৌবন বিসর্জন দিয়ে অবিবাহিতই থেকে যান।
তার মা রোজিনা খাতুন পাঁচ বছর আগে বজ্রপাতে মারা যান। পরিবারে তিনি ছিলেন প্রধান উপার্জনকারী।
গত ৮ এপ্রিল লেবাননের বৈরুতে তিনি তার কফিলের পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় ইসরাইলি বিমান হামলায় তিনি এবং কফিলের পরিবারের আরো কয়েকজন নিহত হন। পরবর্তীতে তার মরদেহ বৈরুতের একটি হাসপাতালে মর্গে রাখা ছিল।
ফরিদপুর ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার এবং দূতাবাসের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, মরদেহ আনার পুরো ব্যয় বহন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পরিবারকে তিন লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।
নিহতের বাবা শেখ মোফাজ্জল (৭০) বলেন, “সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মেয়েকে হারিয়ে আমি দিশাহারা হয়ে পড়েছি। এখন তার মরদেহ কাছে পেয়ে একটু স্বস্তি লাগছে।”
নিহতের বোন লাইজু আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আপা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছে। এখন শুধু তার স্মৃতি নিয়েই বাঁচতে হবে। আপনারা সবাই আমার বোনের জন্য দোয়া করবেন।’
Reporter Name 








