ফরিদপুর ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মধুখালীতে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চুরির ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার, চুরির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উদ্ধার মধুখালীতে মধুমতি নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ড্রেজার মেশিন জব্দসহ একজন আটক মধুখালীতে দুই কেজি গাঁজা সহ মাদক ব্যবসায়ী আটক ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্বোধন দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর: মধুখালীতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মধুখালীতে এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মধুখালীতে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি গ্রন্থগার ও যাদুঘর পরিদর্শন করলেন–জেলা পরিষদের প্রশাসক ফরিদপুর চিনিকলে তিনদিন ব্যাপী ইনহাউজ প্রশিক্ষণ শুরু টেকসই ও আধুনিক পৌর নগর গঠনে মধুখালীতে ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ফরিদপুরে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫
  • ৫৯৫ Time View
203

ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গোপালদী গ্রামে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্ত নুর আলম ওরফে হুমায়ুন(৩৪) ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গোপালদী গ্রামের মোঃ শহীদ শেখের পুত্র। রায় ঘোষণার সময় নুর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশ প্রহরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই নারীর বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার দয়ারামপুর গ্রামে। মেয়ে হত্যার দায়ে তার পিতা কুতুব উদ্দিন মোল্লা গত ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর মামলা দায়ের করেন মধুখালী থানায়। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন, গত ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর দিবাগত রাত পৌনে একটার সময় আমার মেয়ের স্বামীর বাড়ি উপজেলার গোপালদী গ্রামে তার পরিবারের লোকজন যোগসাজশে যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে তাদের নিজ বাড়িতে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। এরপর আমার মেয়ে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচারণা চালায়। এ বিষয়ে আমাকে এবং আমার পরিবারের কাউকে কিছু জানাই না তার স্বামীর বাড়ির লোকজন। পরবর্তী দিন ২৪ অক্টোবর ভোর ছয়টার সময় প্রতিবেশীদের মাধ্যমে ফোনে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারে কোন লোকজনকে না দেখে আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, আমরা রাষ্ট্রপক্ষ মামলার এ রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। মামলাটিতে মোট ১২ জন সাক্ষী দেয়। সকল আলামত ও সাক্ষীদের জবানবন্দীতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দেন। তিনি বলেন, এই মামলা একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে যৌতুক লোভী মানুষের জন্য, যারা যৌতুক না পেয়ে নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে।

Tag :
About Author Information

Acting Editor

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুখালীতে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চুরির ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার, চুরির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উদ্ধার

ফরিদপুরে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Update Time : ০৯:২৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫
203

ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গোপালদী গ্রামে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্ত নুর আলম ওরফে হুমায়ুন(৩৪) ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গোপালদী গ্রামের মোঃ শহীদ শেখের পুত্র। রায় ঘোষণার সময় নুর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশ প্রহরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই নারীর বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার দয়ারামপুর গ্রামে। মেয়ে হত্যার দায়ে তার পিতা কুতুব উদ্দিন মোল্লা গত ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর মামলা দায়ের করেন মধুখালী থানায়। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন, গত ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর দিবাগত রাত পৌনে একটার সময় আমার মেয়ের স্বামীর বাড়ি উপজেলার গোপালদী গ্রামে তার পরিবারের লোকজন যোগসাজশে যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে তাদের নিজ বাড়িতে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। এরপর আমার মেয়ে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচারণা চালায়। এ বিষয়ে আমাকে এবং আমার পরিবারের কাউকে কিছু জানাই না তার স্বামীর বাড়ির লোকজন। পরবর্তী দিন ২৪ অক্টোবর ভোর ছয়টার সময় প্রতিবেশীদের মাধ্যমে ফোনে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারে কোন লোকজনকে না দেখে আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, আমরা রাষ্ট্রপক্ষ মামলার এ রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। মামলাটিতে মোট ১২ জন সাক্ষী দেয়। সকল আলামত ও সাক্ষীদের জবানবন্দীতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দেন। তিনি বলেন, এই মামলা একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে যৌতুক লোভী মানুষের জন্য, যারা যৌতুক না পেয়ে নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে।