ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান থেকে পরিষদ কার্যালয় সরিয়ে ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে নেওয়া হলে সাধারণ মানুষকে সেবা নিতে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরের দিকে সদরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশ স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। পরে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল করে ইউএনও শরীফ শাওনের কাছে স্মারকলিপি দেন।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা জানান, ১৯৮২ সালে মোলামের ডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। ইউনিয়নের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় জায়গাটি প্রায় মধ্যবর্তী হওয়ায় ৪৪ বছর ধরে সেখান থেকেই পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি পরিষদ কার্যালয়টি ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের খেজুরতলা এলাকায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিস্বার্থে কার্যালয়টি স্থানান্তরের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এতে ইউনিয়নের অধিকাংশ বাসিন্দার যাতায়াতে সমস্যা হবে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা শামসুল হক বলেন, ১৯৮২ সালে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমান জায়গাটি ইউনিয়নের জন্য সুবিধাজনক। তবে বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পরিষদ ভবনটি তাঁর বাড়ির পাশে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভিডিও কনফারেন্সে মানববন্ধনে যুক্ত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও কাজাখস্তানপ্রবাসী ফরহাদ ওহাব আকন বলেন, ‘বর্তমান পরিষদ ভবনটি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকায়। ৪৪ বছর ধরে এখান থেকেই কার্যক্রম চলছে। এত বছর পর হঠাৎ করে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, পরিষদ কার্যালয়টি আগের জায়গাতেই রাখা হোক।’
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন যেখানে রয়েছে সেখানে মাত্র ১২ শতক জায়গা আছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কমপক্ষে ৪২ শতক জমি প্রয়োজন। নতুন এলাকায় এলাকাবাসী পর্যাপ্ত জমি দিয়েছে এবং সেখানে ভবন নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়াও চলমান।
ইউএনও বলেন, ‘পুরোনো জায়গায় স্থানীয়রা প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দিলে সেখানেই পরিষদ ভবন রাখা হবে। জমি না দিলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হবে।’
Reporter Name 


















